আমাদের জীবনে "দিদেরো এফেক্ট"

আমাদের জীবনে "দিদেরো এফেক্ট"

@malay Mukherjee
0Verwendungen
0Aktien
0Gefällt mir
0Gespeichert von

ফারাসি দার্শনিক দেনি দিদেরো ১৭৬৬ সালে তিনি তৈরি করেন এক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, যেটা আজও আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে—এটিই “দিদেরো এফেক্ট” নামে পরিচিত। দিদেরো তার জীবনের বেশিরভাগ সময় দারিদ্রতার মধ্যে কাটিয়েছেন। তিনি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখা ও সম্পাদনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে তার এই কাজের বিনিময়ে তিনি তেমন অর্থ পাননি, এবং প্রচণ্ড আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। ১৭৬৬ সালে রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী ক্যাথেরিন দ্য গ্রেট তার এনসাইক্লোপিডিয়া পছন্দ করেন। সম্রাজ্ঞী শুনেছিলেন যে, দিদেরো তার মেয়ের বিয়ের খরচ বহন করতে পারছিলেন না। তাই সম্রাজ্ঞী তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার সম্পূর্ণ লাইব্রেরি তৎকালীন ১৫০,০০০ সমতুল্য মূল্যে কিনে নেন। বর্তমান হিসাব করলে কয়েক কোটি টাকা। হঠাৎ করেই, দিদেরোর কাছে এত অর্থ চলে এলো যে, তিনি বুঝতেই পারলেন না এত টাকা দিয়ে তিনি কী করবেন। আর তাই তিনি প্রথমেই বেরিয়ে গিয়ে, নিজের জন্য একটি দামি ড্রেসিং গাউন কিনলেন। বাসায় এসে সেটা গায়ে চাপিয়ে আয়নায় দাঁড়ীয়ে তার মনটাই খারাপ হয়ে গেল। দামি ড্রেসিং গাউনটা খুবই সুন্দর ছিল এবং তাকে সুন্দর মানিয়েছিল, কিন্তু তার ঘরের কোন কিছুই সেই দামি ড্রেসিং গাউনের সাথে মিলছিল না। তাই তিনি একটি দামি ড্রেসিং টেবিল কিনে আনলেন। এর পরে সুন্দর একটা খাট কিনলেন। এর পরে ম্যাচিং করে আরও বেশি জিনিস কিনতে শুরু করলেন। তিনি নিজের জন্য একটি নতুন ডেস্ক, একটি আর্মচেয়ার, কিছু পেইন্টিং কিনলেন। আর এটি ধীরে ধীরে এক অসীম ভোগের অবস্থায় পরিণত হলো। বেশ কিছু দিন পরে দেখা গেল তিনি সম্রাজ্ঞীর কাছ থেকে পাওয়া টাকার বেশি ভাগই ব্যয় করে ফেলেছেন অথচ তখনো তার অনেক কিছুই কেনাকানা বাকী। আর এই ঘটনাটাই যেখানে একটি ক্রয় আরেকটি ক্রয়কে টেনে আনে, তাকে এখন "দিদেরো এফেক্ট" বলা হয়। আমাদের সবার জীবনেই এমন ছোট বড় "দিদেরো এফেক্ট" থাকতে পারে। ছোট একটা উদাহরণ দিতে পারি, এক ফ্রিল্যান্সার ছোট ভাই, মাসে ভাল টাকা ইনকাম করছে, ব্যাংকে তার বেশ কিছু টাকা জমেছে। তার ভাল কনফিগারেশনের কয়েক বছরের পুরাতন একটা পিসি আছে। যেটা দিয়ে তার ফ্রিল্যান্সিং রিলেটেড সব কাজ সুন্দর ভাবে হয়ে যায়। হাতে যেহতু কাঁচা টাকা আছে, তাই সে অন্যদের দেখাদেখি শখ করে একটা ম্যাক মিনি নিয়ে এল। দেখা গেলে তার পুরাতন মনিটরটা ম্যাক মিনির সাথে ম্যাচ করছে না। তাই সে একটা দামি 4K বড় স্ক্রিনের মনিটর নিয়ে এল। এর পরে সে দামি মেকানিক্যাল কীবোর্ড কিনল, এর পরে দামি মাউস। এর পরে সে একে একে টেবিল চেয়ার থেকে শুরু করে, অনেক কিছুই ম্যাচিং কররে চেঞ্জ করে ফেলল। কিছু দিন পর দেখা গেল, তার সঞ্চয়ের সব টাকা শেষ। অথচ এখনো তার এপল ইকোসিস্টেম পুরাপুরি কমপ্লিট হয়নি, একটা আইফোন এবং একটা এয়ার পডস থাকলে আরো ভাল হত। হিসাব করে দেখা গেল, সে তার সঞ্চয়ের কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে ফেলেছে। অথচ শুরুটা হয়েছিল হাতের তালুর ছোট্ট সাইজের ম্যাক মিনি দিয়ে। আপনার জীবনেও কি এমন কোনো “দিদেরো এফেক্ট” কাজ করেছে? আপনি যদি এর শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে নিচে মন্তব্য করে জানান—আপনি কীভাবে এই চক্র থেকে নিজেকে মুক্ত রাখছেন বা এর মোকাবিলা করছেন? ধন্যবাদ!

bn
Öffentlich
Stimme verwenden
Proben
Es gibt noch keine Hörproben