আচ্ছা ভাই, সত্যি করে একটা কথা বলো তো... বন্ধুদের সাথে যখন একটু চিল করতে যাও, বা গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিনে গিফট দিতে হয়—তখন বাবার কাছে হাত পাততে কেমন লাগে? খারাপ লাগে না? আমি জানি লাগে। কারণ আমিও একজন স্টুডেন্ট। আমি জানি টিউশনের ফি, রিচার্জের খরচ, আর নিজের ছোটখাটো শখ পূরণের জন্য বাড়িতে বারবার টাকা চাইতে আমাদের আত্মসম্মানে লাগে। কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমার হাতে যে স্মার্টফোনটা আছে, ওটা শুধু রিলস দেখার বা গেম খেলার যন্ত্র না। ওটা একটা সোনার খনি। যদি তুমি দিনের ফালতু সময়গুলো—যে সময়টা তুমি শুয়ে-বসে কাটাও—সেই ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আমাকে দিতে পারো, তাহলে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি... আগামী ৯০ দিন পর তোমাকে আর হাতখরচের জন্য কারো মুখের দিকে তাকাতে হবে না। আজ আমি কোনো কঠিন বিজনেস প্ল্যান শেখাব না, আমি শেখাব ফ্রিল্যান্সিং—যেটা আমাদের মতো স্টুডেন্টদের জন্য গেম চেঞ্জার। চলো, রোডম্যাপটা দেখে নিই। পার্ট ১: ফ্রিল্যান্সিংটা আসলে কী ভাই? সহজ ভাষায় বলি—এটা কোনো চাকরি না। কারোর হুকুম শোনার দরকার নেই এখানে। ধরো, তুমি ফোনে ভালো ভিডিও এডিট করতে পারো, বা ভালো ফটো এডিট করতে পারো, বা ক্যানভাতে ডিজাইন করতে পারো। এখন ইন্টারনেটে এমন হাজার হাজার মানুষ আছে যাদের এই কাজটা দরকার। তুমি তাদের কাজ করে দেবে, তারা তোমাকে পেমেন্ট করবে। সিম্পল ডিল। তুমি তোমার পড়ার ফাঁকে ফাঁকে কাজ করবে, নিজের বস তুমি নিজেই। পার্ট ২: স্কিল কোনটা শিখব? এখন তোমরা বলবে, "ভাই, আমি তো কিছুই পারি না!" আরে ভাই, কেউ মায়ের পেট থেকে শিখে আসে না। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এমন কিছু স্কিল আছে যা শিখতে ১ মাসও লাগে না। যেহেতু আমরা ইয়াং, আমাদের ক্রিয়েটিভিটি বেশি। ১. ভিডিও এডিটিং: এখনকার দিনে ইউটিউবারদের এডিটরের অভাব নেই। (Alight Motion বা CapCut তো ফোনেই চলে!) ২. থাম্বনেইল মেকিং: একটা ভালো থাম্বনেইলের জন্য মানুষ ৫০০-১০০০ টাকা দিতেও রাজি। ৩. কপিরাইটিং বা স্ক্রিপ্ট রাইটিং: যদি লিখতে ভালো লাগে। যেটা তোমার ইন্টারেস্ট, সেটাই বেছে নাও। জোর করে কিছু শিখো না। পার্ট ৩: শিখব কীভাবে? (টাকা ছাড়া) অনেকে বলে, "ভাই পিসি নেই, ল্যাপটপ নেই, দামী কোর্স কেনার টাকা নেই।" শোনো, এসব অজুহাত। আমি যখন শুরু করেছিলাম, আমার কাছেও কিচ্ছু ছিল না। আমি ইউটিউব দেখে শিখেছি। আমাদের সবথেকে বড় শিক্ষক হলো YouTube। তুমি যেটা শিখতে চাও, জাস্ট সার্চ করো। GFX Mentor বা ভালো ভালো চ্যানেলের টিউটোরিয়াল দেখো। আমার প্রথম ইনকাম যখন হয়েছিল, বিশ্বাস করো ওই সামান্য টাকাটা আমার কাছে কোটি টাকার সমান ছিল। কারণ ওটা আমার নিজের কামানো। তাই পিসির জন্য ওয়েট করো না, পকেটে থাকা ফোনটা দিয়েই শুরু করো। ওটাই যথেষ্ট। পার্ট ৪: ক্লায়েন্ট পাব কোথায়? শুরুতেই ফাইবার-আপওয়ার্ক (Fiverr/Upwork)-এ গিয়ে মাথা খারাপ করো না। ওটা প্রো-দের জায়গা। তুমি শুরু করো আমাদের লেভেল থেকে। তোমার ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে দেখো কারা কন্টেন্ট বানাচ্ছে। অনেক ছোট ছোট ইউটিউবার আছে যাদের এডিটিং বাজে। তাদের মেসেজ করো—"ভাই, আমি তোমার ভিডিওটা আরও ভালো করে এডিট করে দিতে পারি, প্রথমটা ফ্রিতে করে দেব, ভালো লাগলে পরে পেমেন্ট দিও।" লোকাল দোকানের কাকুকে বলো তার দোকানের জন্য তুমি ডিজিটাল পোস্টার বানিয়ে দেবে। দেখবে কাজ আপনাআপনি আসবে। শুধু লজ্জাটা ভেঙে কথা বলতে হবে। পার্ট ৫: আসল সত্যি (Reality Check) দেখো ভাই, আমি তোমাকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখাব না। কাজটা সহজ, কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে হবে না। প্রথম ১ মাস হয়তো কিচ্ছু হবে না। মনে হবে ধুর, এসব ফালতু। কিন্তু ওই সময়টাই আসল। আমাদের স্কুল-কলেজ তো আছেই, তার সাথে এই স্কিলটা হলো আমাদের 'ব্যাকআপ প্ল্যান'। ভেবে দেখো, কলেজ শেষ করার পর যখন সবাই চাকরির জন্য জুতো ক্ষয় করবে, তখন তোমার হাতে অলরেডি একটা ইনকাম সোর্স থাকবে। তুমি অন্যদের থেকে ১০ কদম এগিয়ে থাকবে। [শেষের কথা] তাই আজ থেকেই শুরু করো। ৯০ দিনের চ্যালেঞ্জ নাও। নিজের মা-বাবার কষ্টটা একটু কমাও। নিজের টাকায় কেনা শার্ট পরার আনন্দই আলাদা ভাই! কমেন্টে আমাকে জানাও—"ভাই, আমি চ্যালেঞ্জ নিলাম!"। আমি দেখতে চাই কতজন আসল বাঘের বাচ্চা আমার সাথে আছে। সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটা বাজিয়ে দাও, কারণ আমরা একসাথে গ্রো করব। দেখা হচ্ছে পরের ভিডিওতে! টা টা।
