আছে অসংখ্য গল্প, যার কোনোটি হাসির, কোনোটি কান্নার, আর কোনোটি আবার মানুষকে অনুপ্রাণিত করে অনন্তকাল ধরে। নবীদের জীবনগাথা তেমনই এক অমূল্য সম্পদ, যা মানবতাকে সঠিক পথের দিশা দেখায়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল্লাহ তায়া’লার প্রিয় বান্দা ও নবী, আইয়ুব (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তাঁর জীবন ছিলো ধৈর্য, সহনশীলতা, বিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল ভালোবাসার এক প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর এই মহাকাব্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলো তাঁর স্ত্রী, রাহিমা। তাঁদের ভালোবাসার গল্পটি কেবল স্বামী-স্ত্রীর সাধারণ প্রেমকাহিনি ছিলো না, ছিলো পরীক্ষা ও প্রতিকূলতার প্রতিটি বাঁকে আল্লাহর উপর আস্থা ও ভালোবাসার এক অনন্য উপাখ্যান।আইয়ুব (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম ধনী এবং সম্মানিত ব্যক্তি। আল্লাহ তায়া’লা তাঁকে দান করেছিলেন অঢেল সম্পদ, বিস্তৃত পশুপাল, ফলবতী ভূমি, এবং এক বিশাল ও সুখী পরিবার। সুস্বাস্থ্য ছিলো তাঁর নিত্যসঙ্গী। তিনি ছিলেন একজন কৃতজ্ঞ বান্দা, যিনি জীবনের প্রতিটি ধাপে আল্লাহর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর দেওয়া প্রতিটি নেয়ামতের সদ্ব্যবহার করতেন। তাঁর জীবন ছিলো তাঁর জাতির জন্য একটি আদর্শ। আর তাঁর পাশে সবসময় ছায়ার মতো ছিলেন তাঁর প্রিয়তম স্ত্রী, রাহিমা। রাহিমা ছিলেন রূপবতী, বুদ্ধিমতী এবং দ্বীনি জ্ঞানে সমৃদ্ধা এক নারী। তাঁর ভালোবাসা ছিলো আইয়ুব (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য এক অফুরন্ত শক্তি। তাঁদের জীবন ছিলো একে অপরের প্রতি সম্মান, গভীর বিশ্বাস এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক মধুর বন্ধনে আবদ্ধ, যা তাঁদের সুখের সংসারে এনেছিলো পরিপূর্ণতা।