সকালবেলা ছোট্ট একটি শহরের প্রাইমারি স্কুল মাঠে প্রতিদিন দেখা যেত দুটি ছোট বন্ধু — মাসফি আর মাইশা। ওদের বন্ধুত্ব ছিল চিরসবুজ। একসাথে দৌড়ানো, গাছে চড়া, বর্ষার পানিতে নাচা, আর পিঠে ব্যাগ নিয়ে স্কুল যাওয়ার মজা — সব কিছুতেই ছিল ওদের দুইজনার ছাপ। মাসফি ছিল একটু দুষ্টু, সারাদিন হাসিখুশি আর চঞ্চল। আর মাইশা ছিল শান্ত, মিষ্টি একটা মেয়ে, যার চোখে ছিল স্বপ্নের ঝিলিক। ওরা একসাথে কাটাত সবটুকু সময় — যেন একে অপর ছাড়া পৃথিবী অসম্পূর্ণ। কিন্তু সময়টা কখনও থেমে থাকে না। পঞ্চম শ্রেণির শেষে মাইশা হঠাৎ বাবার চাকরির কারণে চলে যায় অন্য শহরে। বিদায়ের দিনটাতে কিছু বলার ছিল, কিন্তু কেউই কিছু বলতে পারেনি। শুধু চোখের কোণ ভিজে ছিল দুজনার। বছরের পর বছর কেটে যায়। স্কুল পেরিয়ে কলেজ, তারপর ভার্সিটি লাইফ। নতুন বন্ধুত্ব, নতুন শহর, কিন্তু ছোটবেলার সেই এক ফাঁকা জায়গাটা কেউই পূরণ করতে পারেনি। একদিন হঠাৎ করেই মাসফির চোখে পড়ে এক চেনা মুখ — ভার্সিটির করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে মাইশা! প্রথমে বিশ্বাস হয় না, তারপর হাসতে হাসতে কাছে গিয়ে বলে, "তুই... তুই কি সত্যিই মাইশা?" মাইশাও অবাক, তারপর দুজনেই হেসে ওঠে। পুরনো স্মৃতি যেন আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় নতুন এক গল্প — চায়ের কাপে সন্ধ্যা, লাইব্রেরির কোণে দুষ্টুমি, আর ক্যান্টিনে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে চাওয়া-পাওয়া। বন্ধুত্বের সেই চিরচেনা রঙ যেন এবার একটু বেশি গাঢ় হয়ে যায়। একদিন বিকেলে ক্যাম্পাসের গাছতলায় বসে মাসফি বলে, "তুই আগেও এতটাই সুন্দর ছিলি নাকি, আমি খেয়াল করিনি?" মাইশা একটু হেসে মাথা নিচু করে বলে, "তুই আগেও এতটাই পাগল ছিলি!" সেদিন দুজনার চোখে ছিল না কোনো দ্বিধা, ছিল শুধু একটিই অনুভূতি — ছোটবেলার বন্ধুত্ব কখনো পুরনো হয় না, বরং সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসায় রূপ নেয়।