গল্পের শিরোনাম: "স্বপ্নের ফেরিওয়ালা" অনেকদিন আগের কথা, ছোট্ট এক গ্রাম ছিল, নাম তার শান্তিপুর। গ্রামের মাঝে বয়ে যেত এক ছোট্ট নদী। সেই নদীর ধারে বাস করত এক যুবক, নাম তার আকাশ। আকাশের স্বপ্ন ছিল একদিন সে বড় শিল্পী হবে। কিন্তু তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই তাকে বাবার সাথে ক্ষেতে কাজ করতে হত। কিন্তু কাজের ফাঁকে যখনই সময় পেত, আকাশ নদীর ধারে বসে ছবি আঁকত। একদিন, গ্রামের পাশে এক বড় শহরে এক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হল। আকাশ জানত, এটাই তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ। কিন্তু তার কাছে প্রদর্শনীতে যাওয়ার মতো টাকা ছিল না। সে খুব মন খারাপ করে নদীর ধারে বসে ছিল। হঠাৎ, এক বৃদ্ধ লোক তার পাশে এসে বসল। বৃদ্ধ লোকটির হাতে ছিল একটি পুরোনো ব্যাগ। আকাশকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে বৃদ্ধ লোকটি জিজ্ঞাসা করল, "কি হয়েছে বাবা, এতো মন খারাপ কেন?" আকাশ তার স্বপ্নের কথা বৃদ্ধ লোকটিকে বলল। সব শুনে বৃদ্ধ লোকটি হাসল। সে তার ব্যাগ থেকে একটি তুলি বের করে আকাশের হাতে দিয়ে বলল, "এই তুলি তোমার সব স্বপ্ন পূরণ করবে। তবে মনে রেখো, স্বপ্ন পূরণের পথ সহজ নয়। পরিশ্রম আর ধৈর্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।" বৃদ্ধ লোকটি চলে যাওয়ার পর, আকাশ তুলিটি নিয়ে ছবি আঁকতে শুরু করল। সে এমন সব ছবি আঁকতে লাগল, যা আগে কখনো কেউ দেখেনি। তার ছবিগুলো যেন কথা বলত। ধীরে ধীরে, আকাশের ছবিগুলো বিখ্যাত হতে শুরু করল। তার ছবি দেখে মানুষ মুগ্ধ হত। একদিন, শহরের চিত্র প্রদর্শনীতে আকাশের ছবিও স্থান পেল। তার ছবি দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল। আকাশ প্রথম পুরস্কার পেল। পুরস্কার হাতে নিয়ে আকাশ সেই বৃদ্ধ লোকটিকে খুঁজতে লাগল। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পেল না। তখন আকাশের মনে হল, সেই বৃদ্ধ লোকটি আর কেউ নন, স্বয়ং ঈশ্বর। তিনি তাকে স্বপ্ন পূরণের পথ দেখিয়েছিলেন। আকাশ বুঝতে পারল, স্বপ্ন দেখতে হয়, আর সেই স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য পরিশ্রম করতে হয়।
