রহিম মিয়া শহরের এক কোণে থাকে। তার ঘর বলতে টিনের ছাউনি আর বাঁশের দেয়াল। প্রতিদিন ভোরে সে রিকশা নিয়ে বের হয়। পায়ে তার ছেঁড়া জুতো—বৃষ্টির দিনে পানি ঢুকে পা ভিজে যায়, তবু সে থামে না। রহিমের একটাই মেয়ে, লাইলী। মেয়েটা স্কুলে যেতে খুব ভালোবাসে। বই খাতার গন্ধে তার চোখ জ্বলে ওঠে। কিন্তু অনেক দিন হলো, রহিম স্কুলের বেতন দিতে পারছে না। তবু সে মেয়েকে বলে, “পড়াশোনা ছাড়বি না মা, আব্বা ঠিক কিছু করবে।” একদিন রিকশা চালাতে চালাতে রহিম রাস্তায় একটা মানিব্যাগ পেল। ভেতরে অনেক টাকা। মুহূর্তের জন্য তার চোখে ভেসে উঠল—নতুন জুতো, মেয়ের স্কুল বেতন, একটু ভালো খাবার। কিন্তু পরমুহূর্তেই সে মানিব্যাগটা থানায় দিয়ে দিল। কয়েক দিন পর মানিব্যাগের মালিক রহিমকে খুঁজে বের করল। তার সততায় মুগ্ধ হয়ে সে রহিমকে একটা স্থায়ী কাজ দিল। সেই প্রথম দিন রহিম নতুন জুতো কিনল—নিজের জন্য নয়, মেয়ের জন্য। লাইলী জুতো পেয়ে হাসল। রহিম বুঝল, সে গরিব হতে পারে, কিন্তু তার সততা আর স্বপ্ন কখনো গরিব নয়।